অব্যক্ত কথা ।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।

অব্যক্ত কথা ।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।


অব্যক্ত কথা

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিল হাসিবএমন সময় দেখল নিলু আসছে।নিলু কিছু দিন হল ওদের পাড়ায় এসেছে।এর আগে নিলুকে চিনত না ওএকটি কাজের সুবাদে ওর সাথে পরিচয়।সেই থেকেই ওদের বন্ধুত্ব।নিলুকে নিল শাড়িতে পরীর মত লাগেছেচোখ ধাঁধানো মত রূপযেই শাড়িই পরে তাতেই ভাল লাগে।একদিন নিলু হলুদ শাড়ি পরে বের হয়েছিল।হাসিব তো চোখই ফিরাতে পারছিল না।যাই হক,হাসিবের চা খেতে খেতে নিলু কাছে চলে এসেছে।এসে বলল,
- চল আজ রিক্সায় করে ঘুরবো।
নিলুর রিক্সায় করে ঘুরার খুব সখ। কিন্তু ওরা এক সাথে কখনো রিক্সায় ঘুরেনি।
- হঠাৎ! কি মনে করে? হাসিব তো অবাক।
- চল, কখনো তো ঘুরা হয়না।তাই একটু ঘুরি।
- আচ্ছা চল।
দু' জনে একটি রিক্সায় পাশাপাশি বসে আছেকেউ কোনো কথা বলছে না। রিক্সা চলছেকিন্তু কোথায় যাবে তাও কিছু বুঝছছে নাঅনির্দিষ্ট গৌন্তব। নিলু সব সময় হাসি-খুশি থাকে।কিন্তু আজ কেমন যেন মনমরা।গম্ভীর।তাই হাসিবেই নিরাবতা ভাঙ্গল
- কি হয়েছে তোমার?
- কিছু না।কেন?
-না। এমনি আজ তোমাকে একটু অন্য রকম লাগছে।
আবার কিছুক্ষণ নিরব। তারপর নিলু কথা বলল।
- আচ্ছা হাসিব, তুমি আমার কি হও?
- এটা কেমন প্রশ্ন? বন্ধু।
- শুধুই বন্ধু, আর কিছু নয়?
- আর কি?  হাসিব পালটা প্রশ্ন করল অবাক চোখে।
- শুধু বন্ধু।আমিও বিবাহিত তুমিইও।আমরা এক রিক্সায় পাশা-পাশি বসে আছি।দুজনের শরীর স্পর্শ করেছে দুজনকে।তাও কি কিছু নেই!
বলে আবার থেমে গেল।হাসিবও কিছু বলছি না।আর কি বা বলবে? বুঝতে পারছে নাআবার দু' জন নিরব। আবার বলতে শুরু করল নিলু
- আমি চলে যাচ্ছি।বলে হঠাৎ থেমে গেল নিলু।
হাসিব নিলুর দিকে অভাব হয়ে তাকাল
- চলে যাচ্ছো মানি! কোথায় ?
- মালয়েশিয়া।
-কবে? কেন ?
-এগারো তারিখ।সাজ্জাতের কাছে। (সাজ্জাত নিলুর স্বামীর নাম)
- আসবে কবে?
- আর আসবো না। শুধু পরিক্ষা দিতে আসবো।
- ও।
রিক্সা চলছে আফতাব নগরের রাস্তায়।সন্ধায় হয়ে আসছে।কুয়াশায় গ্রাস করে ফেলছে সব।দূরে কিছুই দেখা যাছে না।সেই কুয়াশা ভেদ করে রিক্সা চলছে। কুয়াশায় কেউ কাউ কে এখতে পারছে নানিলুর শীত-শীত লাগছিল।হাসিবের  সাথে ঘেষে বসলো।
- আমি তোমাকে একটি কথা বলবো।বলে নিলু হাসিবের দিকে তাকাল
- বলো।
- আমি তোমার কাছে এত দিন একটি কথা আশা করেছিলা।But তুমি কখনো নিজ থেকে আমাকে বলনি।আর কোনো দিন বলবে কিনা, আমি জানি না।খুব দ্রুত কথা গুলো বলল ও।
একটানা বলে দম নিল।হাসিবও কিছু বলছি না।ওরা কুয়াশার মাঝে ডুবে গেছেআবার বলতে শুরু করল নিলু।
- আমি আমার হাজবেন্ডকে খুব ভালবাসি।ও আমকে ভালবাসে কিনা জানি না।তবেতুমি আমাকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছো।তুমি আমার খুব কাছের একজন বন্ধু।তাই আমি চেস্টা কিরবো, তোমার সাথে যোগাযোগ রাখার।পারবো কি না জানি না।তবুও চেস্টা করবো।

রিক্সাওয়ালা কে বলল ঘুরে চলতে।রিক্সা ঘুরিয়ে চলতে থাকল।নিলু হাসিবের হাতটি জড়িয়ে ধরল শক্ত করেকেউ কোনো কথা বলছে না।কিছুক্ষন রিক্সা চলার পর হাসিব বলল
- সেই কথাটি তো বললে না।
- কোন কথা?
- যেই কথা শুনতে চেয়েছিলে।
- আর শুনে কি হবে? থাক।
নিলু কথা জরিয়ে গেল।চোখের জল চিবুকে গড়িয়ে এক ফোঁটা পরলো হাসিবের  হাতে।হাসিব মুছে দিল না জল।অন্য সময় হলে মুছে দিত ও।আজ কাঁদুক। কাঁদলে মনটা হালকা হবে।হাসিব নিলুর হাতটি শক্ত করে ধরল।নিলু হাসিবের কাঁধে মাথা রাখল।তখনও কাঁদছে নিলু।রিক্সাও চলছে কুয়াশা ভেদ করে।
                                             ******* 

।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।   
       ১৯/০৬/১৯
       











Post a Comment

0 Comments